ম্যালওয়্যার
ম্যালওয়্যারের পুরো নাম হলো ম্যালিসিয়াস সফটওয়্যার (Malicious Software)। অর্থাৎ এটি একধরনের সফটওয়্যার প্রোগ্রাম যেটি একদম ঠিক নেয়, এবং খারাপ ভাগ্যবসত যদি আপনার সিস্টেমে প্রবেশ করে তবে আপনার পুরো সিস্টেমটিকে অকেজো করে ফেলতে পারে।
উৎস
এখন কথা বলা যাক এই ম্যালওয়্যার কোথায় কোথায় থেকে আপনার সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারে তা নিয়ে। দেখুন আজকের দিনে আপনার কম্পিউটারটি আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে কমন সোর্স হলো ইন্টারনেট। ইন্টারনেটে যদি আপনি কোন ম্যালিসিয়াস ওয়েবসাইটে থাকেন, যদি আপনি কোন পাইরেটেড মুভি ডাউনলোড করেন, যদি পাইরেটেড সফটওয়্যার এবং গেমস ডাউনলোড করেন, যদি আপনি কোন ম্যালিসিয়াস ওয়েবসাইটে ম্যালিসিয়াস অ্যাডের উপর ক্লিক করেন অথবা আপনার কাছে যদি কোন ম্যালিসিয়াস ইমেইল আসে তবে এগুলোর মাধ্যমে আপনার কম্পিউটারটি ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। অনলাইন ছাড়া অফলাইনেও আপনার কম্পিউটার আক্রান্ত হতে পারে। আপনি যদি কোন অজানা সোর্স থেকে আসা সিডি, ডিভিডি, বা পেনড্রাইভ আপনার কম্পিউটারের সাথে কানেক্ট করেন তবে আপনার কম্পিউটার আক্রান্ত হতে পারে।
ম্যালওয়ার থেকে বাঁচার উপায়
সর্বপ্রথম উপায় তো এটি যে, আপনি আপনার পুরো ধারনার এবং সাবধানতার ব্যবহার করুন। আপনি আপনার কমন সেন্স ব্যবহার করুন। চেষ্টা করুন ইন্টারনেটে যে ওয়েবসাইট গুলো ভিসিট করেন তা যেন বিশ্বস্ত সাইট হয়। একটি পপুলার, বড়, এবং বিশ্বস্ত সাইট সাধারনত ম্যালিসিয়াস হয় না। যেকোনো ওয়েবসাইটের লিঙ্কে ক্লিক করে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকুন। কোন ওয়েবসাইট ভিসিট করার সময় আপনার কাছে যদি অ্যাড আসে যে, “আইফোন জিতুন, এখানে ক্লিক করুন” বা “আপনার কম্পিউটারের সকল ভাইরাস রিমুভ করুন” ইত্যাদি অ্যাডে কখনোয় ক্লিক করবেন না। তাছাড়া আপনার কাছে যদি এমন কোন মেইল আসে যে, “আপনি এতো কোটি টাকার লটারি জিতেছেন” বা “আপনার জন্য লেটেস্ট অফার নিয়ে নিন অমুক অ্যান্টিভাইরাস ১ বছরের জন্য ফ্রি” তো ইত্যাদি মেইল কখনোয় ওপেন করবেন না। বা মেইলের সাথে আসা ফাইল কখনোয় ডাউনলোড করবেন না। তো অনলাইনে এ সকল বিষয় বস্তুর উপর বিশেষ ধ্যান রেখে আপনার কম্পিউটারকে আক্রান্ত হওয়া থেকে বাচাতে পারেন।
তাছাড়াও আমি বলবো একটি ভালো অ্যান্টিভাইরাস এবং সাথে ইন্টারনেট সিকিউরিটি ব্যবহার করুন। তবে একটি বিশেষ খেয়াল রাখুন এই অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারটি যেন একটি পেইড ভার্সন হয় একটি লাইসেন্সড ভার্সন হয়। আপনি যদি ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস বা পাইরেটেড অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করেন তবে আমার কথা শুনে নিন, এতে আপনার সামান্যতম লাভ হবে না। বরং উল্টা আপনি ট্রোজান আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন। তো আমার মতে যেকোনো কোম্পানির হোক না কেন একটি পেইড ভার্সন অ্যান্টিভাইরাস বা অ্যান্টিম্যালওয়্যার আপনার কাছে থাকা প্রয়োজনীয়।
তাছাড়া আপনি যদি কোন প্রকারের পাইরেটেড কনটেন্ট ব্যবহার না করেন তবে তা আপনার জন্য এক অধিক সুরক্ষা স্তর তৈরি হয়। যদিও সবসময় পাইরেটেড মুভিজ বা সফটওয়্যারের ভেতর ভাইরাস থাকেনা, তবুও কখনো কখনো থাকতেও পারে। তাছাড়া আপনার কম্পিউটারে কোন সিডি, ডিভিডি, বা পেনড্রাইভ প্রবেশ করানোর আগে ভেবে নিন যে এগুলো বিশ্বস্ত সোর্স থেকে আপনার কাছে এসেছে কিনা। কেনোনা অনেক সময় ১০ মিনিটের এক কপি পেস্ট আপনার পুরো কম্পিউটার খারাপ করার জন্য দায়ী হতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার কাছে একটি পেইড ভার্সন অ্যান্টিভাইরাস থাকলে অনেক ভালো হয়। যদি না থাকে তবে কোন প্রকার সিডি, ডিভিডি, বা পেনড্রাইভ প্রবেশ করানোর আগে ভালো করে ভেবে নিন। ভুল করেও একবার যদি এই ভার্চুয়াল এভিল গুলো আপনার কম্পিউটারে প্রবেশ করে বসে, তো আপনি অনেক ভোগান্তির শিকার হতে পারেন।


0 Comments