পরীক্ষায় খারাপ করায় এর পিচ্চির মা তাকে হালকা একটু বকা না দিতেই পিচ্চিটা শুরু করলো সেই কান্না 😭😭😭😭😭 কোনো ভাবেই তাকে থামানো যাচ্ছে নাহ...............
আমি পাশেই ছিলাম , হাতে মোবাইলটা ছিলো . পিচ্চিটার কান্না দেখে আমার কান্না সম্পর্কে জানার আগ্রহ জন্মালো......সাথে সাথে জিজ্ঞাসা করলাম গুগল মামাকে , আর জেনে গেলাম অনেক
 কিছু..................................................
কখনও কি ভেবে দেখেছেন আমরা কেন কাঁদি?
 কি ?? ভেবেছিলেন ??
নিশ্চয় তেমন ভেবে দেখেননি 😳😳😳
 চলুন তাহলে , আজ কান্না সম্পর্কে কিছু কথা জানি

কান্না


আমরা পৃথিবীতে নিজের অস্তিত্বের জানান দেই কান্নার মাধ্যমে , এরপর থেকে বিভিন্ন বয়সে , বিভিন্ন জায়গায় , বিভিন্ন কারণে আমরা কান্না করি 
😭😭



আবেগে চোখে অশ্রু জমলেই সেটাকে আমরা সেটাকে বলি কান্না। ভেতরের জমানো কষ্টগুলো চোখের তপ্ত জলে বের করে দিতে পারলেই যেন আমাদের শান্তি।
আবার মাঝে মাঝে আমরা খুশিতেও কেঁদে ফেলি 😄😄😄
😄😄😄
 

কান্নার প্রকারভেদআরে ভাই , কান্না তো কান্না- ই , এতে আবার এতো ভাগ-বাটোয়ারা কিসের ??
হ্যা , আমি এটাই ভাবতাম এবং সেটা ছিলো আমার ভুল ভাবনা......


কান্না সাধারনত ৩ প্রকার -

১.ব্যাসাল টিয়ার্স ( চোখকে ধুলাবালি থেকে রক্ষা করে এই কান্না 
ব্যাসাল টিয়ার্স বলতে সাধারণত চোখের ধুলোবালি পরিষ্কারক জলকে বুঝানো হয়। চোখে ধুলো পড়ল আমরা যখন রিয়্যাক্ট করি, তখন হয়তো চোখটা হালকা ভিজে যায় বা গড়িয়ে সামান্য পানি বের হয় , সেটা ব্যাসাল টিয়ার্স
২.রিফ্রেক্স টির্য়াস ( চোখের রিফ্রেশের জন্য এমন কান্না) অনেকক্ষণ ধরে আলোর দিকে তাকিয়ে থাকলে বা বেশীক্ষণ অন্ধকারে থাকলে অনেকের চোখ দিয়ে পানি পড়ে থাকে আর এই রিফ্রেশমেন্টের জন্য চোখ থকে যে পানি বের হয় তাই হল রিফ্রেক্স টিয়ার্স।


৩.ইমোশনাল টির্য়াস ( দু:খ কষ্ট অনুভব করার কান্না)
মন খারাপ হলে আমরা কাঁদলে আরাম বোধ করি বা নিজেদের মন হাল্কা মনে হয়। শারীরিক ব্যাথার কারণে আমরা কাঁদি। এটা মানসিক আবেগ থেকে তৈরি হয়। তবে মানুষের জন্য সুখবর যে, কষ্ট পেলে বা মন খারাপ থাকলে প্রাণী জগতের একমাত্র তারাই কাদঁতে পারে! ইমোশনাল কান্না শারীরিক ব্যাখার বাইরেও কিছু বলার থাকে। বেশিরভাগ সময় আমরা আবেগীয় কান্না কাঁদি- অন্যের সাথে সখ্যতা বাড়ানোর জন্য বা যোগাযোগ রাখার জন্য। যেমন-প্রিয় মানুষটি যখন কাঁদে তখন আমাদের চোখেও পানি চলে আসে কারণ তার সাথে যোগাযোগ ভাল আমাদের। বাচ্চারা কাঁদে,কারণ কথা শিখার আগে এটাই ভাব প্রকাশের মাধ্যম তাদের কাছে। মানুষেরও হতাশা,ভালবাসা,ভাললাগা,দু:খ,ভয় আর প্রয়োজনের তাগিদে কান্না চলে আসে।যারা ভালবাসার মায়ায় জড়িয়ে আছেন প্রিয় জনের সাথে, তাদের কান্নাটা হয়ে যায় বন্ধন শক্ত রাখা আর নিজেদের দু:খটাকে প্রকাশের সহজ মাধ্যমের জন্য। ভাব প্রকাশের জন্য অনেক ভাষা আছে কিন্তু কান্না সার্বজনীন ভাষা। সবাই এটা বোঝে।







কেনো/কিভাবে ???

এতকিছু জানার পর আপনাদের মাথায় দুইটা প্রশ্ন আসতে পারে -

*ব্যাসাল / রিফ্লেক্স টিয়ার কেনো হয় ??

*ইমোশনাল টিয়ার আমাদের মন হালকা করে কিভাবে ??
*ব্যাসাল / রিফ্লেক্স টিয়ার কেনো হয় ??

আমরা কিন্তু চোখকে সম্পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রন করছি নাহ বা আমরাই পুরো দায়িত্ব নিয়ে চোখকে রক্ষা করি নাহ
চোখ নিজে নিজেকে অনেক ক্ষেত্রে চালনা করে এবং এর নিজের সুরক্ষা ব্যাবস্থা আছে ।

যখন চোখের উপরিভাগে কিছু আঘাত করে , তখন চোখটা ভিজে ওঠে সেই ধুলাবালু বা খুদ্রকনাকে অপসারনের জন্য 
কম্পিউটার বা মোবাইলকে প্রয়োজনে রিফ্রেশ করে নেন। তেমনি অনেক্ষন একদিকে তাকিয়ে থাকার পর চোখেরও রিফ্রেশমেন্ট দরকার হয়! আর তাই রিফ্রেশমেন্টের জন্য চোখ থেকে পানি বের হয়
*ইমোশনাল টিয়ার আমাদের মন হালকা করে কিভাবে ??
বিজ্ঞানীদের মতে ইমোশনাল টির্য়াসে খুব বেশি পরিমাণে থাকে ম্যাঙ্গানিজ নামের এক ধরনের লবণ আর প্রোল্যাক্টিন নামের এক ধরনের প্রোটিন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই দু’টো পদার্থ শরীর থেকে বের হয়ে গেলে মানুষ অনেকটা আরাম বোধ করে। আর তাই মন খারাপ হলে আমরা কাঁদলে আরাম বোধ করি বা নিজেদের মন হাল্কা মনে হয়।




কান্নার
 উপকারীতা 


আবারো অবাক হতে হলো , কান্না আসে - কান্না করে ফেলি -মন হালকা হয়ে যায় - শেষ । কিন্তু নাহ , এখানেই শেষ নয় . কান্নার আছে আরো কয়েকটি উপকারিতা ।


চলুন , জেনে নেই সেসব উপকারিতাগুলো -

১. যে কোনও ধরনের শারীরিক যন্ত্রণা বা কষ্ট কমাতে কান্নার বিকল্প নেই। কান্না করলে শরীরের ভেতরের অক্সিটসিন এবং এন্ডোজেনাস অপিওডিস নামক দুটি হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। যার প্রভাবে যে কোনও ধরনের যন্ত্রণা কমে। সেই সঙ্গে মন-মেজাজও চাঙা হয়ে ওঠে। 


২. সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, কান্নার সময় আমাদের শরীরের ভিতরে এমন কিছু হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায় যার প্রভাবে তাড়াতাড়ি ঘুম আসে।

৩. যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের করা এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, কাঁদার সময় মনের চঞ্চলতা কমে যেতে শুরু করে। ফলে সুখ কিংবা দু:খ, যে কারণেই চোখে পানি আসুক না কেন, মনের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে কোনও কষ্টই হয় না। এজন্য কান্নার পর মনটা হালকা লাগে। 
৪. একাধিক গবেষণায় বিশেষজ্ঞরা লক্ষ করেছেন, কান্নার সময় শরীরে উপস্থিত  টক্সিক উপাদান চোখের পানির সঙ্গে বেরিয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কোনও ধরনের শারীরিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।  
৫. জন্ম নেওয়ার পরই নবজাতকের কান্না তার শরীরের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্রথম কান্নার সময়ই বাচ্চার শরীরে অক্সিজেন প্রবেশ করতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ফুসফুস ধীরে ধীরে অক্সিজেন গ্রহণ করার পরিস্থিতিতে আসে। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে শুরু হতে সময় লাগে না। 
৬. ফুড মাইক্রোবায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,  কাঁদার সময় চোখের পানির সঙ্গে লাইসোজাইম নামে একটি রাসায়নিকও শরীর থেকে বেরিয়ে আসে। এই উপাদানটি পাঁচ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে আমাদের শরীরে উপস্থিত প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ জীবাণু মেরে ফেলে। 
৭. কান্নার সময় মস্তিষ্কের ভেতরে প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম অ্যাকটিভেট হয়ে যায়। যে কারণে ধীরে ধীরে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটতে শুরু করে।

সূত্র : বোল্ড স্কাই।




তাহলে  বোঝা যাচ্ছে যে , কান্না শুধু আমাদের অনুভূতি প্রকাশ বাদেও নিরবে আমাদের অনেক উপকার করে . তাই , আমার মতে সাধারণত কান্না আসলে তা জোড় করে আটকে রাখা ঠিক নয় ।

কারণ এতে মানুষিক ভাবে আমরা দুর্বল হয়ে পড়ি , কাজ করার শক্তি হাড়িয়ে ফেলি , এছাড়াও উপরে উল্লেখিত সুবিধাগুলো থেকেও বঞ্চিত হই.................................


অনেক কিছু জানা হলো আজ ,তাই এই পর্যন্তই থাক............

আমার লেখা পড়ে যদি আপনার ভালো লেগে থাকে , তাহলে নিয়মিত আমার সাথে থাকুন এই পেজের সর্বনিন্মের বক্সে আপনার ইমেইল সাবমিটের মাধ্যমে ............

এ ছাড়া ব্লগের কন্টাক্ট ফর্ম অথবা ব্লগের নিজস্ব ম্যাসেঞ্জার এর মাধ্যমে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন


ফেসবুকে আমি



Tags : কান্না , কান্নার কারণ , কান্নার উপকারিতা ,মানুষ কেনো কান্না করে , Cry , Why

do people cry? , Tear drop , Eye Health