ফেস, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, পাসওয়ার্ড, পিন — ইত্যাদি নানানভাবে আমরা আমাদের স্মার্টফোন আনলক করতে পারি। কিন্তু এতো অপশন এর মধ্যে কোনটি সবচাইতে বেস্ট?কোনটা কম নিরাপদ আবার কোনটা বেশি নিরাপদ?
 আপনি কোনটি ব্যবহার করবেন? 
আজকে আমি আপনাদের সামনে লকগুলো সম্পর্কে সাধারন তথ্যগুলো তুলে ধরবো  , যাতে আপনি লক ব্যবহারে সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারেন .......................


তাহলে , চলুন শুরু করা যাক ..............................................................




ফেস রিকগনিশন - ফেসলক[FACELOCK]

 স্মার্টফোন আনলক সিস্টেমের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম পদ্ধতি হলো  ফেস আনলক সিস্টেম । এটি আপনার মুখমন্ডল স্ক্যান করার মাধ্যমে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে আপনার ফোন আনলক করতে সক্ষম।



যারা ব্যাস্ততার কারণে ফোনে পিন, পাসওয়ার্ড কিছুই ইউজ করেন না, তবে তাদের কাছে ফেস আইডি অনেক সহজ একটি ব্যাপার। ফোনের দিকে জাস্ট তাকালেন আর ফোন খুলে গেলো,  আবার আপনার ফেস ছাড়া সেটি খুলবে না! অসাধারণ ব্যাপার না? — দেখুন যদি বলি ইউজ করা কতোটা সহজ, তো ইয়েস ফেস আইডি ইউজ করা সবচাইতে সহজ। আপনাকে কিছুই মনে রাখতে হবে না, উল্টে আপনার ফোনই আপনার ফেস মনে রাখবে।

 তবে সবচেয়ে দ্রুততম হলেও , এটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও পিন লেভেলের সিকিউর নয়। প্রথম যখন ফেস আনলক সিস্টেম আনা হয় , তখন এটির অবস্থা ছিলো হজবরল .সেসময় প্রথম ধাপে ক্যামেরা দিয়ে ফেসের ছবি উঠানো হতো, তারপরে ফেসের সাথে মিল করে ফোন আনলক করা হতো। একে তো অন্ধকারে ফেস আনলক খুব খারাপ কাজ করতো, কখনো করতোই না। আবার ছবি দেখিয়েও এসকল ফেস লক আরামে খুলে ফেলা যেতো।

তবে প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে ফেসলক সিস্টেমও এখন বেশ শক্তিশালী ও সুপারফাস্ট
আমার ব্যাক্তিগত মতে , সবচেয়ে সিকিউর ফেস আনলক সিস্টেম প্রোভাইড করে অ্যাপল . তারা তাদের আইফোন এক্স এর সাথে যে ফেস রিকগনিশন সিস্টেম দিয়েছে, যেটার নাম রাখা হয় ফেস আইডি, সেটা এক আলাদা পদ্ধতিতে কাজ করে। এতে শুধু ক্যামেরা হয় নানান টাইপের সেন্সর ইউজ করা হয়, তারপরে ফেসের 3D মডেল তৈরি করে, সিস্টেম নিজে নিজেই অনেক শিক্ষা লাভ করে, তারপরে সেই অনুসারে কাজ করে। 

মিড বাজেট থেকে শুরু করে হাই এন্ড পর্যন্ত প্রায় সকল ডিভাইজ গুলোতেই বর্তমানে ফেস লক সিস্টেম দেখা যাচ্ছে। একেক রকম ডিভাইজে একেক  রকম ম্যাকানিজম ইউজ করে ।

যেগুলো শুধু ক্যামেরা দিয়ে কাজ করে, সেগুলো কম সিকিউর তবে আলাদা ম্যাকানিজম ও নানান সেন্সরের সাহায্যে কাজ করা ফেস লক সিস্টেম শুধু ক্যামেরা ইউজ করে ফেস লক সিস্টেম থেকে বেশি সিকিউর

 কিন্তু যদি বলি এটা কতোটা সিকিউর? সেক্ষেত্রে প্রশ্ন আলাদা হবে। হ্যাঁ, অবশ্যই হ্যাকারের কাছে আপনার ফেস নেই, কিন্তু আপনাকে জোর করে সহজেই কেউ আপনার ফোন আনলক করিয়ে নিতে পারবে, সেটা ফেস লক, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা যেকোনো বায়োমেট্রিক সিকিরিটির ক্ষেত্রে!
আপনি কাউকে পাসওয়ার্ড মুখে বলে দেওয়ার পূর্বে কেউ আপনার মুখের সামনে ফোনটি ধরে আনলক করে ফেলা অনেক সহজ ব্যাপার। যদিও সকল ফেস লক হয়তো এভাবে কাজ করবে না, বাট অনেক ফেস লক সিস্টেমে ধরুন আপনি পাশে ফোন রেখে ঘুমাচ্ছেন, আপনার ফেসের সামনে ধরলেই ফোনটি আনলক হয়ে যাবে! তাহলে এর নিরাপত্তা কথায়? ইউটিউবে অনেক টেস্টে দেখা যায় জাস্ট আপনার ফটো দেখিয়ে ফোনের সিস্টেমকে বোকা বানানো সম্ভব!

ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক[FINGER PRINT LOCK]



আমি ফিঙ্গারপ্রিন্ট ইউজ করার বিরাট ফ্যান, কেননা এটি অনেক বেশি ফাস্ট এবং অবশ্যই প্যারালেস !
পাসওয়ার্ড বা পিন প্রবেশ করানো আরো বেশি সিকিউর কিন্তু কেউ যদি আমার অজান্তে পাস থেকে পাসওয়ার্ড গেস করে ব্যাস কেল্লা ফতেহ! ফিঙ্গারপ্রিন্ট কেউ গেস করতে পারবে না। সবচাইতে বড় কথা হচ্ছে এটা সবচাইতে বেশি ফাস্ট !


 যাদের মস্তিষ্ক অত্যন্ত বেশি ধারালো, মাত্র চার সংখ্যার পিন সেটাও সহজেই যারা ভুলে শেষ করে ফেলে, ফিঙ্গারপ্রিন্ট তাদের জন্য অতি দরকারি জিনিস ! 



পাসওয়ার্ড/পিনলক



যদি সিকিউরিটির কথা বলি র‍্যান্ডম পাসওয়ার্ড/পিন তৈরি করে ফোন লক করা সবচাইতে বেস্ট সিকিউরড পদ্ধতি, কিন্তু দিনে আপনি কতোবার ফোন আনলক করে? ৫০-১০০ বার বা আরো বেশি হতে পারে। তো এতোবার বারবার করে সেই কমপ্লেক্স পাসওয়ার্ড প্রবেশ করানো বিরাট এক প্যারার কাজ। অনেকে তো চার সংখ্যার পিন মনে রাখতে সক্ষম নয়, তাদের কাছে কমপ্লেক্স পাসওয়ার্ড তো অনেক দূরের ব্যাপার।
পাসওয়ার্ড অনেক স্লো, আপনি কতো কমপ্লেক্স পাসওয়ার্ড সেট করেছেন সে অনুসারে আনলক করতে ততোবেশি সময় লাগতে পারে। ইমারজেন্সি অবস্থায় পাসওয়ার্ড দ্রুত খুলতে সমস্যা হতে পারে, পাসওয়ার্ড বারবার ভুল প্রবেশ করালে ফোন আনলক হওয়া থেকে কয়েক মিনিট বা ঘণ্টার জন্য ব্যান হয়ে যেতে পারে।


পিনের সুবিধা হচ্ছে আপনি ইচ্ছা মতো সেটাকে পরিবর্তন করতে পারবেন, যেটা ফেস লকের ক্ষেত্রে বা ফিঙ্গারপ্রিন্টে সম্ভব নয়। হ্যাঁ, পাসওয়ার্ড ও ইচ্ছা মতো পরিবর্তন করতে পারবেন, কিন্তু সেগুলোকে মনে রাখা কষ্টের। পিন সে তুলনায় মনে রাখা সহজ, কেননা মাত্র কয়েকটি সংখ্যায় যুক্ত থাকে। আপনার পিন যদি কেউ গেস করে ফেলে সেক্ষেত্রে সহজেই পিন পরিবর্তন করে হ্যাক হওয়া থেকে বাঁচতে পারেন। যেখানে বায়োমেট্রিক সিকিউরিটি পরিবর্তন করার পদ্ধতি নেই। মানে কারো কাছে আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্টের হুবহু মডেল থাকলে বারবার আপনার সকল ডিভাইজই বাইপাস করে ফেলতে পারবে, যদিও এতে হাই টেক প্রয়োজনীয়!
পিনেও কিন্তু অসুবিধা রয়েছে, এক দিক থেকে বলতে গেলে পিন ক্র্যাক করা সব চাইতে সহজ ব্যাপার। শুধু হ্যাকারের হাতে যদি যথেষ্ট সময় থাকে ব্রুট ফোর্স অ্যাটাক মেরে আপনার পিন বের করে ফেলতে পারবে। যদি পিনের সাথে এক্সট্রা সিকিউরিটি থাকে, ব্রুট ফোর্স প্রটেকশন থাকে সেক্ষেত্রে পিন ক্র্যাক করা মুশকিল হতে পারে।
৪ সংখ্যার পিনের সিকিউরিটি লেভেল এক আবার ৬ সংখ্যার পিনের সিকিউরিটি লেভেল আরেক। এই হিসেবে দেখতে গেলে প্যাটার্ন লক ইউজ করা বেশি সিকিউরড, বাট গবেষকগন এটাও প্রমান করে দেখিয়েছেন যে প্যাটার্ন লক ও তেমন সিকিউরড নয়। হ্যাকারের কাছে এমন সফটওয়্যার টুলস ও রয়েছে যেটা আপনার ফোন বন্ধ রেখেই পিন ট্রায় করতে পারে, মানে ভুল পিন প্রবেশ করালেও সেটা ফোন গুনতে পারবে না, ফলে আরামে ব্রুট ফোর্স অ্যাটাক চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।


                                           

কোনটি বেস্ট?

এতোক্ষণে আশা করছি এটুকু বুঝতে সক্ষম হয়েছেন, এর কোন ফিক্সড উত্তর নেই যে কোনটি আপনার জন্য বেস্ট।

আপনি উপরের তথ্যগুলো পড়ে হয়তো বুঝে ফেলেছেন কোনটা আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো- তাও একবার শর্টকার্ট এ আপনাদের মনে করিয়ে দেই - 

⧭আপনি যদি ব্যাস্ত মানুষ হন এবং আপনার ফোন্নের ফেসলক সিস্টেম যদি লেটেস্ট হয়ে থাকে তাহলে আপনি নিশ্চিন্তে আপনার ফোনে ফেসলক সিস্টেম ব্যাবহার করতে পারেন

⧭আপনি ব্যাস্ত কিন্তু , আপনার ফোনের ফেসলক সিস্টেমটি যদি পুরোনো বা তুলনামূলক দুর্বল হয়ে থাকে , তবে আপনার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট আনলক ব্যাবহার করাই ভালো হবে



⧭আপনি যদি আপনার ফোনে অতি ব্যাক্তিগত /ব্যাবসায়িক গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য বহন করেন , তবে আপনার জন্য ফেসলক/ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক ব্যাবহার না করাই ভালো  .এ ক্ষেত্রে আপনি পাসওয়ার্ড/পিনলক ব্যাবহার করতে পারেন


ফেসবুকে আমি  [Tahmid Abrar]


*এখানে WIREBD সাইট থেকে কিছু তথ্য/লাইন নেয়া হয়েছে। আসল পোস্টটি দেখুন এখানে